সামাজিক ঐতিহ্যের একটি স্বতন্ত্র প্রকল্প

ঐতিহ্য প্রকল্পব্যক্তিত্ব

ইতিহাসের মানুষ

জনসেবা, চিকিৎসা, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, শিক্ষা ও সাংবাদিকতায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনচরিত।

জনসেবা, চিকিৎসা, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সংগ্রহের মানুষের জীবন জানুন। জীবনচরিত, ছবি ও প্রকাশিত স্মৃতিচারণ ব্যক্তিগত অর্জনকে বাংলার বৃহত্তর ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করে। সম্প্রদায়গত পরিচয়ের উৎস ব্যাখ্যা করা হয়েছে নির্বাচনের টীকায়

অজিতকুমার পাঁজার সরকারি সংসদীয় প্রতিকৃতি
ভারতের সংসদ, লোকসভা। মূল প্রতিকৃতি, উইকিমিডিয়া কমন্স-এর মাধ্যমে। GODL–India

আইন · সংসদ · নাট্যচর্চা

অজিতকুমার পাঁজা

১৯৩৬–২০০৮ · প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

আইনের শিক্ষা এবং শিল্পের প্রতি আগ্রহ নিয়ে অজিতকুমার পাঁজা দীর্ঘ জনজীবন গড়ে তোলেন। কলকাতায় জন্ম; পড়াশোনা স্কটিশ চার্চ কলেজ এবং লন্ডনের লিঙ্কন্‌স ইন-এ। ১৯৮৪ সালে লোকসভায় প্রবেশের আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ও রাজ্য সরকারে কাজ করেন।[১]

অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ—পরপর ছয়টি লোকসভায় তিনি কলকাতা উত্তর-পূর্ব কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেন (১৯৮৪–২০০৪)। কেন্দ্রে তথ্য ও সম্প্রচার, অর্থ, কয়লা এবং বিদেশবিষয়ক দায়িত্ব পালন করেন। সংসদের স্মরণবার্তায় তাঁর বাংলা ও ইংরেজি লেখালেখি এবং মঞ্চাভিনয়ের কথাও বলা হয়েছে।[২]

পুরোনো পারিবারিক ছবিতে হরেকৃষ্ণ কোঙার, বিভা কোঙার ও দুই শিশু
বিভা কোঙারের সঙ্গে হরেকৃষ্ণ কোঙার। কমন্সের তালিকায় ছবিটির সাল ১৯৪১। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লেখ্যাগারকে উৎস এবং ভারতে পাবলিক ডোমেন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিশুদের পরিচয় তালিকায় নেই।

কৃষক আন্দোলন · ভূমিসংস্কার

হরেকৃষ্ণ কোঙার

১৯১৫–১৯৭৪ · কৃষক সংগঠক ও রাজ্যের মন্ত্রী

বিপ্লবী ও কৃষক সংগঠক হরেকৃষ্ণ কোঙারের জনজীবন পশ্চিমবঙ্গের কৃষি-রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। ১৯৩৮ সালে কারামুক্তির পরে তিনি কৃষক আন্দোলনে কাজ করেন। ১৯৬৭ ও ১৯৬৯ সালে গঠিত যুক্তফ্রন্ট সরকারে ভূমি ও ভূমিরাজস্ব মন্ত্রী হন।[৩]

উদ্বৃত্ত ও বেনামি জমি নিয়ে তাঁর কাজ কৃষিকাজ, ভূমিস্বত্ব এবং গ্রামীণ রাজনৈতিক সংগঠনের বৃহত্তর ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর জীবনকে যুক্ত করে। এখানে ব্যবহৃত স্মরণলেখাটি একজন রাজনৈতিক সহকর্মীর লেখা; তার দৃষ্টিভঙ্গি ও অসংগতির বিবরণ উৎসতালিকায় রয়েছে।[৩]

বিনয় চৌধুরীর পুরোনো সাদা-কালো প্রতিকৃতি
বিনয় চৌধুরীর পুরোনো প্রতিকৃতি। আলোকচিত্রী অজ্ঞাত। উইকিমিডিয়া কমন্সে ছবিটি ১৯৬০ সালের আগের এবং ভারতে পাবলিক ডোমেন বলে চিহ্নিত।

কমিউনিস্ট রাজনীতি · ভূমিসংস্কার · গ্রামোন্নয়ন

বিনয় চৌধুরী

১৯১১–২০০০ · স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সিপিআই(এম) নেতা[৪]

বিনয় চৌধুরী—বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরী নামেও পরিচিত—বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে কৃষক রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেন। বিপ্লবী যুগান্তর দলের প্রাক্তন সদস্য হিসেবে তিনি ১৯৩৮ সালে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে বর্ধমানের প্রাক্তন মহারাজাকে হারিয়ে বিধানসভায় নির্বাচিত হন।[৫]

১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পরে মন্ত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিসংস্কার ও পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠানের বিকাশে তিনি নেতৃত্ব দেন। ভাগচাষিদের অধিকার নথিভুক্ত করার কর্মসূচি অপারেশন বর্গা-র সঙ্গে তাঁর নাম বিশেষভাবে যুক্ত। সিপিআই(এম)-এর স্মরণবার্তায় সংস্কার রূপায়ণে আইনের জ্ঞান ও কৃষক সংগঠনকে একত্র করার জন্য তাঁকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে।[৫]

সাংবাদিক অ্যান্ড্রু হোয়াইটহেডকে ১৯৯২ সালের জুনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর বিপ্লবী কাজ, কারাজীবন, কমিউনিস্ট আন্দোলন ও ভূমিসংস্কারের স্মৃতি সংরক্ষিত।[৪] বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রামীণ প্রযুক্তি কেন্দ্রের নাম ২০০০ সালে তাঁর স্মৃতিতে রাখা হয়। গ্রামসমাজের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও জীবিকা তার কাজের কেন্দ্র।[৬]

সংরক্ষিত সাক্ষাৎকার দেখুন ↗

অচিন্ত্যকুমার দত্ত Explorations in Colonial Bengal (২০২৩), পৃ. ৩১৪-এ স্বাধীনতা আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনীতি আলোচনা করতে গিয়ে বিনয় চৌধুরীকে স্পষ্টভাবে উগ্রক্ষত্রিয় ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রেখেছেন। তাঁর সম্প্রদায়গত পরিচয়ের একটি প্রকাশিত উৎস এটি।[৭]

ডা. রণজিৎকুমার পাঁজার সরকারি সংসদীয় প্রতিকৃতি
ভারতের সংসদ, লোকসভা। মূল প্রতিকৃতিGODL–India অনুযায়ী উৎসের কৃতিত্ব দিয়ে পুনঃপ্রকাশিত।

চিকিৎসা · শিক্ষকতা · সংসদ

ডা. রণজিৎকুমার পাঁজা

১৯৩২–২০০৬ · চর্মরোগবিশেষজ্ঞ ও সাংসদ[৮][৯]

রণজিৎকুমার পাঁজা চিকিৎসা পেশার সঙ্গে জনসেবাকে যুক্ত করেন। সংসদীয় জীবনচরিতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও এডিনবরার রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্‌স-এ তাঁর শিক্ষার উল্লেখ আছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে তিনি চর্মরোগবিদ্যা পড়াতেন; ১৯৭৪ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত অধ্যাপক ছিলেন।[৮]

১৯৯৮ সালে বারাসত থেকে দ্বাদশ লোকসভায় নির্বাচিত হয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন কমিটি ও তার চিকিৎসাশিক্ষা উপসমিতিতে কাজ করেন। জীবনচরিতে তাঁর গবেষণাপত্র, চর্মরোগবিদ্যায় পেশাগত নেতৃত্ব এবং পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে চিকিৎসাশিবিরের কথাও আছে।[৮]

চশমা পরা ঔপন্যাসিক রমাপদ চৌধুরী টেবিলে লিখছেন
লেখার কাজে রমাপদ চৌধুরী। উইকিমিডিয়া কমন্সে Jahidmrr-কে কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে; লাইসেন্স CC BY-SA 4.0। ছবিটি অপরিবর্তিত।

বাংলা কথাসাহিত্য · সম্পাদনা · চলচ্চিত্র

রমাপদ চৌধুরী

১৯২২–২০১৮ · ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও সম্পাদক[১০]

খড়্গপুরে জন্ম নেওয়া রমাপদ চৌধুরী আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যে স্বতন্ত্র কণ্ঠ হয়ে ওঠেন। প্রথম উপন্যাস প্রথম প্রহর প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে; ১৯৬০ সালে বনপলাশীর পদাবলী তাঁকে বৃহত্তর পরিচিতি দেয়। নিজের লেখার পাশাপাশি তিনি কয়েক দশক ধরে আনন্দবাজার পত্রিকা-র রবিবাসরীয় সম্পাদনা করেন।[১০][১১]

তাঁর উপন্যাস ও গল্পে সাধারণ জীবন, নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক পরিবর্তনের চাপ নিবিড়ভাবে ধরা পড়ে। জন্মশতবর্ষের বাংলা প্রবন্ধে তিলোত্তমা মজুমদার তাঁর সংযত, সরাসরি গদ্য এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের সংগ্রামের প্রতি মনোযোগের কথা বলেছেন। নবীন লেখকদের নিঃশব্দে উৎসাহ দেওয়া এক কঠোর সম্পাদকের কথাও তিনি স্মরণ করেছেন।[১২]

এখনই-এর জন্য ১৯৭১ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার এবং বাড়ি বদলে যায়-এর জন্য ১৯৮৮ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান।[১০][১৩] তাঁর সাহিত্য চলচ্চিত্রেও পৌঁছেছে: মৃণাল সেন খারিজ অবলম্বনে ছবি করেন, আর তপন সিংহের এক ডক্টর কি মওত-এর ভিত্তি অভিমন্যু। এই রূপান্তরগুলি বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর সাহিত্যের প্রভাব বিস্তার করে।[১০]

প্রকল্পের মালিকের পরামর্শে অন্তর্ভুক্ত। উদ্ধৃত জীবনচরিতগুলি তাঁর সাহিত্যজীবন নথিভুক্ত করে; আগুরী / উগ্রক্ষত্রিয় পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে না।

পাগড়ি ও পদক পরা প্রতাপচন্দ্র রায় বইভরা টেবিলের পাশে বসে আছেন
প্রাচীন মহাভারত খণ্ডের প্রতিকৃতি; উইকিমিডিয়া কমন্সের তালিকায় তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ১৮৯৪। আলোকচিত্রী অজ্ঞাত; ভারতে পাবলিক ডোমেন বলে চিহ্নিত। মূল স্ক্যান করা খণ্ড

প্রকাশনা · সংস্কৃত সাহিত্য · ইংরেজি পাঠকসমাজ

প্রতাপচন্দ্র রায়

১৮৪২–১৮৯৫ · ইংরেজি মহাভারতের প্রকাশক[১৪]

কলকাতার পুস্তকবিক্রেতা ও প্রকাশক প্রতাপচন্দ্র রায় ভারতীয় ধ্রুপদি সাহিত্যকে বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করেন। তিনি সম্পূর্ণ মহাভারত-এর ইংরেজি গদ্য অনুবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নেন; ১৮৮৩ থেকে ১৮৯৬ সালের মধ্যে তা কিস্তিতে প্রকাশিত হয়।[১৫]

এই উদ্যোগে প্রকাশক রায়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিশোরীমোহন গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুবাদ। রায় প্রথম চোদ্দটি পর্ব প্রকাশ করেন; তাঁর মৃত্যুর পরে স্ত্রী সুন্দরীবালা রায় বাকি চারটি প্রকাশ করেন। পরবর্তী সংস্করণের প্রকাশকের ভূমিকায় বলা হয়েছে, গঙ্গোপাধ্যায় প্রথমে নিজের নাম প্রকাশ না করায় কিছু সংস্করণে অনুবাদটি ভুল করে পি. সি. রায়ের নামে চলে যায়। দুই ব্যক্তির ভূমিকা স্বীকার করলে প্রকাশকের উদ্যোগ ও অনুবাদকের লেখকত্ব—উভয়ই যথাযথ মর্যাদা পায়।[১৫]

এই সমাজের সংগ্রহে তাঁর অন্তর্ভুক্তির সরাসরি ঐতিহাসিক উৎস আছে। Hindu Castes and Sects (১৮৯৬), পৃ. ১৫৮-এ যোগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য “Pratapa Chandra Ray”-কে সুতা আগুরী বলেছেন এবং প্রকাশক হিসেবে তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। উনিশ শতকের সাহিত্যপ্রকাশনার এক বড় কাজের সঙ্গে আগুরী ইতিহাসের যোগসূত্র এই অংশটি।[১৬]

দত্তও সমাজের উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সাঁকোর প্রতাপচন্দ্র রায়কে আলোচনা করেছেন (পৃ. ৩১৩)। আগুরী ইতিহাসে তাঁর স্থানের আরও একটি গবেষণাভিত্তিক উৎস এটি। উপরে ব্যবহৃত প্রকাশনাতথ্য রায়ের প্রকাশনার কাজ ও গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুবাদকে পৃথক করে।[৭]

ভট্টাচার্যের বিবরণ সম্পর্কে পড়ুন ↗ · পৃ. ১৫৮-এর মূল উল্লেখ দেখুন

চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক শক্তি সামন্তের প্রতিকৃতি
শক্তি সামন্ত। উইকিপিডিয়ার ছবির নথি থেকে নিম্ন রেজোলিউশনের ঐতিহাসিক প্রতিকৃতি; সেখানে Yahoo! Movies-কে কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বত্ব মূল অধিকারীর; নথিতে ছবিটি মুক্ত লাইসেন্সের নয় বলে চিহ্নিত।

বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্র

শক্তি সামন্ত

পরিচালক ও প্রযোজক · শক্তি ফিল্মসের প্রতিষ্ঠাতা

বর্ধমানে জন্ম নেওয়া শক্তি সামন্ত বাংলা ও হিন্দি—দুই ভাষার চলচ্চিত্রে কাজ করেন। ১৯৫৭ সালে শক্তি ফিল্মস প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থার বিবরণ অনুযায়ী, তিনি ৪৩টি পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি পরিচালনা করেছেন, যার ছয়টি বাংলায়। হাওড়া ব্রিজ, আরাধনা, কাটি পতঙ্গ, অমর প্রেমঅমানুষ তাঁর পরিচিত কাজগুলির মধ্যে রয়েছে।[১৭]

দুই ভাষায় তাঁর কাজ বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনকে বৃহত্তর চলচ্চিত্র-দর্শকের সঙ্গে যুক্ত করে। স্টুডিওর বিবরণে আরাধনা, অনুরাগঅমানুষ-এর ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কারের উল্লেখ রয়েছে।[১৭]

চশমা ও সাদা জামা পরা বিনয়কৃষ্ণ কোঙার
বিনয়কৃষ্ণ কোঙার। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৪-এর পিপল্‌স ডেমোক্র্যাসির স্মরণলেখার সঙ্গে প্রকাশিত ছবি। আলোকচিত্রীর নাম নেই; ছবির অধিকার সংশ্লিষ্ট স্বত্বাধিকারীর।

কৃষক রাজনীতি · রাজনৈতিক লেখালেখি

বিনয়কৃষ্ণ কোঙার

১৯৩০–২০১৪ · কৃষক সংগঠক ও বিধায়ক

বিনয়কৃষ্ণ কোঙার, বিনয় কোঙার নামেও পরিচিত, ছিলেন হরেকৃষ্ণ কোঙারের ছোট ভাই। বর্ধমানের মেমারি অঞ্চলের কৃষক আন্দোলন থেকে তাঁর উত্থান। ১৯৬৯, ১৯৭১ ও ১৯৭৭ সালের নির্বাচনের পরে তিনি বিধানসভায় মেমারির প্রতিনিধিত্ব করেন। রাজ্য কৃষক সভার নেতা এবং সারা ভারত কৃষক সভার সভাপতি হন।[১৮][১৯]

আনন্দবাজার পত্রিকা-র শোকলেখায় তাঁর দীর্ঘ সাংগঠনিক জীবনের পাশাপাশি সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের কথাও আছে। তাঁর বাংলা প্রবন্ধ ও স্মৃতিচারণ ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রকাশিত নির্বাচিত রাজনৈতিক প্রবন্ধ, স্মৃতি ও স্মরণ-এ সংগৃহীত।[১৯][২০]

চশমা পরা দাশরথি তা-র স্মারক আবক্ষ মূর্তি
দাশরথি তা-র স্মারক আবক্ষ মূর্তি। ১৫ আগস্ট ২০২৬-এ কৃষকসেতু নিউজে তাঁর জীবনবিষয়ক প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত ছবি। ছবির অধিকার সংশ্লিষ্ট স্বত্বাধিকারীর।

স্বাধীনতা আন্দোলন · সাংবাদিকতা · জনসেবা

দাশরথি তা

১৯১১–১৯৮০ · স্বাধীনতা সংগ্রামী, সম্পাদক ও বিধায়ক

দাশরথি তা ১৯৩০ সালে কংগ্রেসে যোগ দেন এবং লবণ সত্যাগ্রহ ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশ নেন। স্বাধীনতার পরে প্রথম সাধারণ নির্বাচনে এবং ১৯৫৭ ও ১৯৬৭ সালে রায়না থেকে বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রথমে কিষান মজদুর প্রজা পার্টি এবং পরে প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।[২১]

সাংবাদিকতাও তাঁর জীবনের স্থায়ী অংশ। তিনি দামোদর সম্পাদনা ও প্রকাশ করতেন; স্বাধীনতার আগে সাপ্তাহিক হিসেবে শুরু হয়ে এটি পরে দৈনিক হয়। বাংলা স্থানীয় ইতিহাসের একটি বিবরণে তাঁর আত্মগোপনকালে স্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামী রমা তা-র পত্রিকা চালিয়ে যাওয়ার কথাও আছে। অঞ্চলের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সংবাদপত্র টিকিয়ে রাখার বাস্তব কাজের সম্পর্ক এই কাহিনিতে ধরা পড়ে।[২১][২২]

নিখিলানন্দ সরের সরকারি সংসদীয় প্রতিকৃতি
ভারতের সংসদ, লোকসভা। মূল প্রতিকৃতিGODL–India অনুযায়ী উৎসের কৃতিত্ব দিয়ে পুনঃপ্রকাশিত।

শিক্ষকতা · স্থানীয় প্রশাসন · সংসদ

নিখিলানন্দ সর

১৯৩৬–২০২০ · শিক্ষক ও সাংসদ[২৩]

বর্ধমানের নিগুনে জন্ম নেওয়া নিখিলানন্দ সর শিক্ষকতার সঙ্গে দীর্ঘ গ্রামীণ জনজীবনকে যুক্ত করেন। সংসদীয় জীবনচরিতে তাঁর সাম্মানিক স্নাতক ডিগ্রি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষাদানের ডিপ্লোমার উল্লেখ আছে। বাংলা শোকলেখায় অমরুন ও জবগ্রাম হাইস্কুলে শিক্ষকতা এবং ১৯৫৮ থেকে কৃষক সংগঠনে কাজের কথা বলা হয়েছে।[২৪][২৩]

সংসদে যাওয়ার আগে তিনি বিধানসভায় মঙ্গলকোটের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি হন। ১৯৯৮, ১৯৯৯ ও ২০০৪ সালে বর্ধমান থেকে নির্বাচিত হয়ে পরপর তিনটি লোকসভায় কাজ করেন। দ্বাদশ লোকসভার জীবনচরিতে অনুমান কমিটি এবং নগর ও গ্রামীণ উন্নয়নবিষয়ক কাজের উল্লেখ আছে।[২৩][২৪]

সংগ্রহে ব্যক্তিদের নির্বাচনের ভিত্তি

প্রথম সাতটি জীবনচরিত উইকিপিডিয়ার আগুরী নিবন্ধের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা অনুসারে নেওয়া হয়; নিবন্ধটি সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ দেখা হয়েছে। প্রতিটি জীবনচরিতের পাশে জীবন ও কাজের উৎস দেওয়া আছে।[২৫] প্রতাপচন্দ্র রায়ের সম্প্রদায়গত পরিচয় ভট্টাচার্যের Hindu Castes and Sects (১৮৯৬), পৃ. ১৫৮-এ স্পষ্টভাবে আছে।[১৬] দত্তের অধ্যায়ে প্রতাপচন্দ্র রায় (পৃ. ৩১৩), বিনয় চৌধুরী, হরেকৃষ্ণ কোঙার ও দাশরথি তা (পৃ. ৩১৪)-র জন্য গবেষণাভিত্তিক উল্লেখ পাওয়া যায়; প্রকাশনাভেদে বানান আলাদা।[৭] রমাপদ চৌধুরীকে প্রকল্পের মালিকের পরামর্শে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; উদ্ধৃত জীবনচরিতগুলি তাঁর সাহিত্যজীবন আলোচনা করে, সম্প্রদায়গত পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে না।

আরও পড়ুন

টীকা ও উৎস

  1. অজিতকুমার পাঁজা — একাদশ লোকসভার জীবনচরিত. পুনঃপ্রকাশিত জীবনচরিত সরাসরি পড়া হয়েছে; একাদশ লোকসভার সময়ে নথিভুক্ত কর্মজীবন বর্ণিত। উৎসের বিবরণ
  2. লোকসভা, শোকপ্রস্তাব, ১০ ডিসেম্বর ২০০৮ — অজিতকুমার পাঁজা. সংসদীয় নথির সূচিবদ্ধ পাঠ দেখা হয়েছে। পর্যালোচনার সময় আর্কাইভের PDF সংযোগ মাঝেমধ্যে অপ্রাপ্য ছিল। উৎসের বিবরণ
  3. বিমান বসু, “The Birth Centenary of Comrade HareKrishna Konar” (২০১৪). দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির স্মরণলেখা, স্বাধীন জীবনচরিত নয়। আন্দামানের তারিখ এবং নিজেরই দেওয়া তারিখের সঙ্গে মৃত্যুকালীন বয়স অসংগত; সেগুলি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে পুনরাবৃত্ত হয়নি। উৎসের বিবরণ
  4. অ্যান্ড্রু হোয়াইটহেড, “Communist Voices: Benoy Choudhury” — জুন ১৯৯২-এর সাক্ষাৎকার. লিখিত ভূমিকা পড়া হয়েছে। আরও শোনার জন্য অডিয়োর সংযোগ আছে; প্রতিলিপি বা সরাসরি উদ্ধৃতির দাবি করা হয়নি। উৎসের বিবরণ
  5. সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো — বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরীর স্মরণবার্তা. দলীয় স্মরণবার্তা, উৎসের পরিচয়-সহ ব্যবহৃত। ওয়েবপাতার তারিখ ২০০৯ হলেও লেখাটি ২০০০-এ তাঁর মৃত্যু নিয়ে। জানুয়ারির জন্মদিন অন্য বিবরণের সঙ্গে মেলে না; শুধু জীবনকাল দেওয়া হয়েছে। উৎসের বিবরণ
  6. বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় — বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরী গ্রামীণ প্রযুক্তি কেন্দ্র. সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পাতা সরাসরি পড়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক স্মরণের জন্য ব্যবহৃত, সম্প্রদায়গত পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে নয়। উৎসের বিবরণ
  7. অচিন্ত্যকুমার দত্ত, “Prosperity, Dominance, and Social Mobility: Emergence of a Mobile Caste in Colonial Southwest Bengal” (২০২৩), পৃ. ২৯৭–৩২৪. দেওয়া বইয়ে সম্পূর্ণ অধ্যায়, অন্ত্যটীকা ও গ্রন্থপঞ্জি সরাসরি পড়া হয়েছে। উল্লেখে মুদ্রিত পৃষ্ঠাসংখ্যা ব্যবহৃত। উৎপত্তির অনুমান লেখকের মত হিসেবেই রাখা হয়েছে। সংযোগে প্রকাশকের বইয়ের নথি খুলবে। উৎসের বিবরণ
  8. ডা. রণজিৎকুমার পাঁজা — দ্বাদশ লোকসভার জীবনচরিত. পুনঃপ্রকাশিত জীবনচরিত সরাসরি পড়া হয়েছে। এটি সেই সময়ের বিবরণ, সম্পূর্ণ পশ্চাৎদৃষ্টিমূলক জীবনী নয়। উৎসের বিবরণ
  9. “Ranjit Panja dead” — দ্য টেলিগ্রাফ. শুধু মৃত্যুসাল সমর্থনের জন্য ব্যবহৃত। উৎসের বিবরণ
  10. রমাপদ চৌধুরী — জীবনচরিতের তথ্যসূত্র. শুধু জীবন ও সাহিত্যকর্মের জন্য; এই জীবনচরিত আগুরী পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে না। উৎসের বিবরণ
  11. নিয়োগী বুকস — রমাপদ চৌধুরী. প্রকাশকের পরিচিতি সরাসরি পড়া হয়েছে। আনন্দ পুরস্কারের সালে দৃশ্যত মুদ্রণভুল পুনরাবৃত্ত হয়নি। উৎসের বিবরণ
  12. তিলোত্তমা মজুমদার, “কলমের দেখানেপনা ছিল না” — আনন্দবাজার পত্রিকা (২৮ ডিসেম্বর ২০২২). বাংলা লেখা সরাসরি পড়ে সারাংশ করা হয়েছে। সাহিত্যিক মূল্যায়ন লেখকের নামে উল্লেখিত; সম্প্রদায়গত পরিচয় অনুমান করা হয়নি। উৎসের বিবরণ
  13. সাহিত্য অকাদেমি — বাংলা পুরস্কারপ্রাপক: ১৯৮৮. পুরস্কার, সাল ও বই যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত। উৎসের বিবরণ
  14. প্রতাপচন্দ্র রায় — উইকিডেটার পরিচিতি নথি. দেখা হয়েছে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শুধু জীবনকাল ও নামের রূপভেদের জন্য; সম্প্রদায়গত পরিচয় বা মহাভারতের অনুবাদক নির্ধারণে নয়। উৎসের বিবরণ
  15. The Complete Mahabharata in English: প্রকাশকের ভূমিকা. প্রকাশকের ভূমিকা দেখা হয়েছে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। প্রকাশনার ইতিহাস ও ভূমিকার বিভাজনে ব্যবহৃত; অনুবাদ ভুল করে রায়ের নামে দেওয়া অনুসরণ করা হয়নি। উৎসের বিবরণ
  16. যোগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, Hindu Castes and Sects (১৮৯৬), সূচিপত্র পৃ. x ও পৃ. ১৫৬–১৫৮. ভট্টাচার্যের শ্রেণিবিন্যাস ও বিবরণের সাক্ষ্য; সরকারি সেনা-নিয়োগ বা রেজিমেন্টের প্রমাণ নয়। জাতিগত ক্রম, শাস্ত্রীয় বংশসূত্র ও চরিত্রের সাধারণীকরণ ঐতিহাসিক দাবি, বর্তমান তথ্য নয়। অধ্যায়ে অনুবাদকের নাম “Kishori Mohan Ganguli”; জীবনচরিতে মহাভারত সংস্করণের প্রকাশকের ভূমিকা অনুসারে Kisari Mohan Ganguli ব্যবহার করা হয়েছে। উৎসের বিবরণ
  17. শক্তি সামন্ত — শক্তি ফিল্মস / আরাধনা ফিল্মসের জীবনচরিত. স্টুডিওর বিবরণ সরাসরি পড়া হয়েছে। জন্মসাল ১৯২৫ বলা হয়েছে, অন্যত্র বহুল উল্লিখিত ১৯২৬-এর সঙ্গে যা মেলে না; তাই জীবনচরিতে জন্মসাল বাদ। স্টুডিওর কোনও ছবি পুনর্ব্যবহারের অনুমতি ছাড়া নেওয়া হয়নি। উৎসের বিবরণ
  18. বিনয়কৃষ্ণ কোঙার — উইকিপিডিয়া. নিবন্ধ পড়া হয়েছে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। উৎসের বিবরণ
  19. “হরেকৃষ্ণ শতবর্ষেই প্রয়াত বিনয় কোঙার” — আনন্দবাজার পত্রিকা (১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪). বাংলা নিবন্ধ সরাসরি পড়ে সাইটের নিজস্ব ভাষায় সারাংশ লেখা হয়েছে। উৎসের বিবরণ
  20. বিনয় কোঙার, নির্বাচিত রাজনৈতিক প্রবন্ধ, স্মৃতি ও স্মরণ — ন্যাশনাল বুক এজেন্সি. নাম, লেখক, ভাষা ও প্রকাশক দেখা হয়েছে। সম্পূর্ণ বই পড়া হয়নি; কোনও অংশ উদ্ধৃত বা সংক্ষেপ করা হয়নি। উৎসের বিবরণ
  21. দাশরথি তা — উইকিপিডিয়া. নিবন্ধ সরাসরি পড়া হয়েছে; উদ্ধৃত চরিতাভিধানের অংশ স্বাধীনভাবে দেখা হয়নি। উৎসের বিবরণ
  22. কৃষ্ণ সাহা, স্বাধীনতা সংগ্রামী দাশরথি তা সম্পর্কে বাংলা বিবরণ — কৃষকসেতু. বাংলা নিবন্ধ দেখা হয়েছে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। স্থানীয় ইতিহাসের বিবরণটি উৎসের নামে উল্লেখিত; সমর্থন ছাড়া যুদ্ধকালীন নাটকীয় দাবি পুনরাবৃত্ত হয়নি। উৎসের বিবরণ
  23. নিখিলানন্দ সরের শোকলেখা — আনন্দবাজার পত্রিকা (২০২০). নিবন্ধ সরাসরি পড়া হয়েছে। জীবনচরিতে শুধু জন্ম-মৃত্যুসাল: এই শোকলেখা ও উইকিপিডিয়ায় জুলাই ২০২০-এর মৃত্যুর নির্দিষ্ট দিন আলাদা। উৎসের বিবরণ
  24. নিখিলানন্দ সর — দ্বাদশ লোকসভার জীবনচরিত. সমসাময়িক পুনঃপ্রকাশিত জীবনচরিত সরাসরি পড়া হয়েছে। উৎসের বিবরণ
  25. “Aguri (caste)” — পরিচিতিমূলক নিবন্ধ ও গ্রন্থপঞ্জি. তালিকার সম্প্রদায়গত পরিচয় এই নিবন্ধের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখিত। জীবন ও কাজের পৃথক উৎস আছে; ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত সব বই দেখা হয়নি। উৎসের বিবরণ

ঐতিহ্য প্রকল্পে খুঁজুন

শুরু করতে একটি শব্দ বা বাক্যাংশ লিখুন।

সাময়িকপত্রের ভিতরের বাংলা লেখার জন্য ব্যবহার করুন সাময়িকপত্রের পাঠাগার.