সামাজিক ঐতিহ্যের একটি স্বতন্ত্র প্রকল্প

আগুরী / উগ্রক্ষত্রিয় · রাঢ়বঙ্গ

একটি জনগোষ্ঠী।
একটি ভূখণ্ড।
এক জীবন্ত ইতিহাস।

আগুরী ঐতিহ্যে স্বাগত। প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মকে যুক্ত করে রাখা নথি ও স্মৃতির সূত্রে জানুন পশ্চিমবঙ্গের আগুরী / উগ্রক্ষত্রিয় সমাজের ইতিহাস, ব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতি।

বাংলার গ্রামজীবনের আবহে মাঠ, নদী ও ঘরবাড়ির অলংকরণ
আগুরীউগ্রক্ষত্রিয়
রাঢ়বঙ্গের মাটিতে শিকড়মাটি, মানুষ ও আত্মপরিচয় · একটি অলংকরণঅঞ্চলগুলি চিনুন →
এক জনগোষ্ঠী, দুই পরিচিত নামআগুরী · উগ্রক্ষত্রিয়
ঐতিহাসিক কেন্দ্রভূমিরাঢ়, পশ্চিমবঙ্গ
আমাদের সম্মিলিত ঐতিহ্যইতিহাস · সংস্কৃতি · ব্যক্তিত্ব

আগুরী ঐতিহ্যে স্বাগত

বাংলার আগুরী সমাজ

শিকড়, জীবিকা, শিক্ষা ও জনজীবনের সূত্রে একটি জনগোষ্ঠীর কথা।

আগুরী বা উগ্রক্ষত্রিয়রা একটি বাঙালি হিন্দু জনগোষ্ঠী। রাঢ়বঙ্গের সঙ্গে, বিশেষত বর্ধমান এবং পার্শ্ববর্তী বীরভূম, বাঁকুড়া ও হুগলি জেলার সঙ্গে তাঁদের নিবিড় ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এই ইতিহাসে গ্রামজীবন, কৃষিকাজ, সৈনিকবৃত্তি, ব্যবসা, শিক্ষা এবং বাংলার জনজীবনে অবদান পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।[১][২]

শিকড়, সৈনিকবৃত্তি ও বসতি

আগুরীদের উৎপত্তি নিয়ে একাধিক মত ও জনশ্রুতি আছে। রাজপুত ও উগ্রক্ষত্রিয় গ্রন্থে হরিচরণ বন্ধু রাজপুত যোদ্ধা, বাংলায় সামরিক কাজ এবং ভূমিদানের সঙ্গে এই সমাজের যোগসূত্র স্থাপন করেছেন।[৩] ইতিহাসবিদ অচিন্ত্যকুমার দত্ত এই প্রশ্নগুলি আলোচনা করলেও জনগোষ্ঠীর চূড়ান্ত উৎপত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেননি। অষ্টাদশ শতাব্দীর আগেই আগুরীদের উপস্থিতির সাক্ষ্য হিসেবে তিনি মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলসহ পুরোনো বাংলা সাহিত্যের উল্লেখ করেছেন (পৃ. ৩০০–৩০৩)।[১]

দত্ত বর্ধমান রাজের নগদ বেতনভোগী নগদী বাহিনীতে উগ্রক্ষত্রিয়দের কাজের কথাও বলেছেন। কোম্পানির শাসনে সেই সামরিক জীবিকা সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে কৃষিকাজ ও জমির উপর নির্ভরতা বৃদ্ধির সম্পর্ক তিনি দেখিয়েছেন (পৃ. ২৯৯–৩০০)।[১] ইতিহাস বিভাগে এই পরিবর্তন ও উৎপত্তির বিভিন্ন ব্যাখ্যা পাশাপাশি পড়তে পারবেন।

জমি, উদ্যোগ ও সমাজ

অনেক পরিবারের জীবনে কৃষিকাজ প্রধান ছিল। অন্যেরা শস্যের ব্যবসা, ঋণদান, চালকল ও খনিশিল্পে যুক্ত হন। দত্ত আঙ্গুনার হাজরা পরিবার-এর চালকল ও কয়লাখনির উদ্যোগ, সাথীনন্দীর পাঁজা পরিবারের ব্যবসা ও জমিতে বিনিয়োগ এবং বাঁকুড়ার সাহানা পরিবারের নানা বাণিজ্যিক কাজের কথা বলেছেন (পৃ. ৩০৮–৩১০)। সাধারণ ও দরিদ্র কৃষকদের ইতিহাসও এই বিবরণের অংশ; সুযোগ ও সম্পদ সকলের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত ছিল না।[১] অঞ্চল বিভাগে এই কাহিনির সঙ্গে গ্রাম, নদী ও বর্ধমানে আগুরী জনসংখ্যার ঐতিহাসিক কেন্দ্রীভবনের সম্পর্ক পাওয়া যাবে।

সমাজের সংগঠিত উদ্যোগ শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। দত্তের মতে, উগ্রক্ষত্রিয় সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৮ সালে। দরিদ্র শিশুদের শিক্ষায় সাহায্য, জানা ও সুতা বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি, পণপ্রথার বিরোধিতা এবং বিধবাবিবাহের সমর্থন ছিল তার কাজের অংশ (পৃ. ৩১১–৩১৩)।[১] এই উদ্যোগগুলি সম্পর্কে পড়ুন সংস্কৃতি ও সমাজজীবন বিভাগে।

ব্যক্তিত্ব ও ঐতিহ্য

বিশিষ্ট মানুষের জীবন আগুরী ঐতিহ্যকে বৃহত্তর জগতের সঙ্গে যুক্ত করে। ইংরেজি মহাভারত প্রকাশনার মাধ্যমে প্রতাপচন্দ্র রায়, এবং রাজনৈতিক ও কৃষক আন্দোলনের মাধ্যমে বিনয় চৌধুরীহরেকৃষ্ণ কোঙার সেই ইতিহাসের অংশ।[৪][১] ব্যক্তিত্ব বিভাগে অজিতকুমার পাঁজা, ডা. রণজিৎকুমার পাঁজাশক্তি সামন্ত-সহ আরও অনেকের জীবন ও সম্প্রদায়গত পরিচয়ের উৎস দেওয়া হয়েছে।[৫]

যৌথ আচার ও গ্রামের পারস্পরিক সম্পর্কেও ঐতিহ্য বেঁচে থাকে। যেমন ক্ষীরগ্রামের যোগাদ্যা পূজা-র বিবরণে বিভিন্ন সমাজের অংশগ্রহণের মধ্যে আগুরীদের স্থানও দেখা যায়।[৬] সুপরিচিত মানুষের জীবনকথার পাশাপাশি দৈনন্দিন স্মৃতি সংরক্ষণেও এই সম্পর্কগুলি আমাদের উৎসাহিত করে।

ঐতিহ্যের পথে

এই ওয়েবসাইটে বাংলা বই, ঐতিহাসিক নথি ও গবেষণার ভিত্তিতে ইতিহাস, সংস্কৃতি, অঞ্চল ও জীবনচরিত একত্র করা হয়েছে। গবেষণা সংগ্রহে অচিন্ত্যকুমার দত্তের গবেষণা এবং বাংলার পরিবর্তনশীল সামাজিক জগৎ নিয়ে সুদর্শনা ভৌমিকের আলোচনা রয়েছে। রাজপুত ও উগ্রক্ষত্রিয়-এর বাংলা মূল ও ইংরেজি অনুবাদ পড়তে পারবেন; আছে নির্বাচিত রচনার পাঠসংগ্রহউগ্রক্ষত্রিয়-প্রতিনিধি-র খণ্ডগুলি এই বৃহত্তর সমাজ-ইতিহাসের সহায়ক উপকরণ হিসেবে সংরক্ষিত।

আপনি পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে আসুন, গ্রামের স্মৃতি ফিরে দেখতে আসুন বা প্রথমবার আগুরী সমাজকে জানতে আসুন—আপনাকে স্বাগত। উপরে ডানদিকে ভাষা নির্বাচন করে বাংলা বা ইংরেজিতে পড়ুন। ছবি, নথি বা স্মৃতি ভাগ করে নিতে চাইলে সহযোগিতার নির্দেশিকা দেখুন।

আপনার যাত্রা শুরু হোক

বহু ধারা, এক সম্মিলিত ঐতিহ্য।

প্রকল্প সম্পর্কে ↗

জীবনচরিত সংগ্রহ থেকে

ইতিহাসের আড়ালে মানুষ।

সব জীবনচরিত পড়ুন ↗

ছবি: লোকসভা ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লেখ্যাগার (উইকিমিডিয়া কমন্সের তালিকা অনুসারে)। প্রতিটি জীবনচরিতের সঙ্গে ছবির পূর্ণ কৃতিত্ব, পুনর্ব্যবহারের তথ্য ও সম্প্রদায়গত পরিচয়ের উৎস রয়েছে।

পরিবার ও গ্রামের কথা

আগামী প্রজন্মকে কী দিয়ে যাব?

একটি পারিবারিক ছবি, বিদ্যালয়ের নথি, গ্রামের কাহিনি বা উৎসবের স্মৃতি আগুরী ঐতিহ্যকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে সাহায্য করে। প্রজন্মের পর প্রজন্মের জীবনকথা আরও সমৃদ্ধ করে তুলতে সহযোগিতা করুন।

এই সংগ্রহে সহযোগিতা করুন →

আরও জানতে আগ্রহী পাঠকদের জন্য

ইতিহাসের সহায়ক উপকরণ

সব উপকরণ দেখুন →

আরও পড়ুন

টীকা ও উৎস

  1. অচিন্ত্যকুমার দত্ত, “Prosperity, Dominance, and Social Mobility: Emergence of a Mobile Caste in Colonial Southwest Bengal” (২০২৩), পৃ. ২৯৭–৩২৪. দেওয়া বইয়ে সম্পূর্ণ অধ্যায়, অন্ত্যটীকা ও গ্রন্থপঞ্জি সরাসরি পড়া হয়েছে। উল্লেখে মুদ্রিত পৃষ্ঠাসংখ্যা ব্যবহৃত। উৎপত্তির অনুমান লেখকের মত হিসেবেই রাখা হয়েছে। সংযোগে প্রকাশকের বইয়ের নথি খুলবে। উৎসের বিবরণ
  2. সুদর্শনা ভৌমিক, The Changing World of Caste and Hierarchy in Bengal: Depiction from the Mangalkavyas c. 1700–1931 (২০২৩). দেওয়া বইয়ের নির্বাচিত আগুরী অংশ ও সহায়ক টীকা সরাসরি পড়া হয়েছে; পুরো বই পর্যালোচিত নয়। রাজস্থান–মানসিংহের আগমনকাহিনি লেখকের বিবৃত ঐতিহ্য হিসেবে দত্তের অনিশ্চয়তার পাশে রাখা হয়েছে। সংযোগে প্রকাশকের নথি খুলবে। উৎসের বিবরণ
  3. হরিচরণ বন্ধু, রাজপুত ও উগ্রক্ষত্রিয়, দ্বিতীয় সংস্করণ (১৯৪০). উৎসর্গ, ভূমিকা, নয়টি অধ্যায় ও সংরক্ষিত উপসংহারের ইংরেজি অনুবাদ ৯৮ পাতার PDF-এ রয়েছে; মূল শুদ্ধিপত্র ও অনুবাদকের টীকা-সহ। মুদ্রিত ১৪২–১৪৩ পাতা ডিজিটাল মূলে নেই। অনিশ্চিত পাঠ চিহ্নিত; সম্পূর্ণ যাচাইকৃত গবেষণা-সংস্করণ নয়। পৃথক ভূমিকার পাঠে বাংলা প্রতিলিপি ও মূল ছবি আছে। উৎসের বিবরণ
  4. যোগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, Hindu Castes and Sects (১৮৯৬), সূচিপত্র পৃ. x ও পৃ. ১৫৬–১৫৮. ভট্টাচার্যের শ্রেণিবিন্যাস ও বিবরণের সাক্ষ্য; সরকারি সেনা-নিয়োগ বা রেজিমেন্টের প্রমাণ নয়। জাতিগত ক্রম, শাস্ত্রীয় বংশসূত্র ও চরিত্রের সাধারণীকরণ ঐতিহাসিক দাবি, বর্তমান তথ্য নয়। অধ্যায়ে অনুবাদকের নাম “Kishori Mohan Ganguli”; জীবনচরিতে মহাভারত সংস্করণের প্রকাশকের ভূমিকা অনুসারে Kisari Mohan Ganguli ব্যবহার করা হয়েছে। উৎসের বিবরণ
  5. “Aguri (caste)” — পরিচিতিমূলক নিবন্ধ ও গ্রন্থপঞ্জি. তালিকার সম্প্রদায়গত পরিচয় এই নিবন্ধের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখিত। জীবন ও কাজের পৃথক উৎস আছে; ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত সব বই দেখা হয়নি। উৎসের বিবরণ
  6. তরুণ চক্রবর্তী, “শরতের দুর্গোৎসবেও জলমগ্ন থাকেন ক্ষীরগ্রামের দশভুজা” — আনন্দবাজার পত্রিকা (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩). বাংলা নিবন্ধ সরাসরি পড়া হয়েছে। রাজাদের কালক্রমের অসংগতি ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। উৎসের বিবরণ

ঐতিহ্য প্রকল্পে খুঁজুন

শুরু করতে একটি শব্দ বা বাক্যাংশ লিখুন।

সাময়িকপত্রের ভিতরের বাংলা লেখার জন্য ব্যবহার করুন সাময়িকপত্রের পাঠাগার.